নীম গাছ এর তিতো পাতার (Neem Leaves) রস মুখের স্বাদ খারাপ করে ঠিকই. কিন্তু শরীরের বিভিন্ন রোগজীবাণুকে একাই শেষ করতে পারে এই পাতার রস. ব্রন, খুশকি, ডায়াবেটিস দূর করার সাথে সাথে নিমপাতা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে. তাই বলে নিম পাতার বিশাল উপকারিতা
নিম পাতার উপকারিতা (Benefits of neem leaves)
না-না শুধু এইটুকুই যে উপকারিতা নিম গাছের সেটা ভেবে সন্তুষ্ট হয়ও না. নিম পাতার আরো অনেক এমন উপকারিতা আছে যা তোমরা হয়তো এর আগে শোনোই নি.
আমার এই আর্টিকেল তা তোমাদের সমস্ত অজানা জিনিসকে আজ জানিয়ে দেবে. আরো একটা অনুরোধ করলাম যদি কিছু ভুল লিখে থাকি আর যদি কিছু বাদ দিয়ে থাকি কমেন্ট এ জানাতে ভুলোনা.
তোমরা কি জানো শুধু নীম গাছের পাতা নয়, বীজ,গাছের ছাল, ফল সবকিছুই উপকারী. কিন্তু পাতার উপকারিতা সবথেকে বেশি.
neem patar upokarita = নিম পাতার অ্যান্টিসেপ্টিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাবলি আমাদের শরীরে রোগ নিরাময় ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে.

নিম ( Neem )গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো= Azadirachta indica
এবার সোজা পয়েন্ট এ আসি নিম পাতার উপকারিতা (neem patar upokarita)
একটা ছোট্ট গল্প শোনো যখন আমার বয়স ছিল প্রায় ১০-১১ বছর আমার মা সপ্তায় একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে তুলেই মুখের মধ্যে ঢেলে দিতো. পেট এ কৃমি হতো আমার খুব কামড়াতো, এই জন্যই মা ঘুমের মধ্যে জোর করে খাইয়ে দিতো. এটা হয়তো তোমাদের অনেকের সাথেই হয়েছে. যাই হোক এটা কিন্তু অনেক কাজে দিতো.
1>> হজমে নিম পাতার কার্যকারিতা
নিম পাতার তিতকুটে স্বাদ, হজমের এনজাইম ক্ষরণকে প্রভাবিত করে. যেগুলো আমাদের খাবারকে দ্রুত ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে. ফলস্বরূপ আমাদের হজম ক্ষমতা বাড়ে. তাই নীম পাতার রস পান করা খুবই দরকার.
2>> ত্বকের যত্নে নিমের উপকারিতা
নিম পাতার মধ্যে (Neem leaves contain) প্রচুর পরিমানে nimbin, nimbolide, azadirachtin, quercetin, gallic acid, catechin, ascorbic acid and beta-sitosterol. এইগুলি আছে, প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের ত্বকের বিভিন্ন ভাবে যত্ন নিতে সক্ষম.
Nimbin = এটি এন্টিব্যাকটেরিয়াল , আন্টি -ইনফ্লামমেটরি হিসেবে কাজ করে. গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি ব্রণ, একজিমা এবং সোরিয়াসিসের মতো প্রদাহজনক অবস্থার সাথে সম্পর্কিত লালভাব এবং ফোলাভাব দূর করতে পারে। নিমের অন্যান্য যৌগের সাথে মিশে নিম্বিন জ্বালাপোড়া এবং প্রদাহিত ত্বককে শান্ত করতে সাহায্য করে।
Nimbolide = নিমের পাতার মধ্যে উপস্থিত নিম্বোলাইড ত্বকের ব্রন দূর করতে সাহায্য করে. এর সাথে ব্রন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে.ত্বকের জ্বালাপোড়া এবং ফুসকুড়ি প্রশমিত করতে নিমের নিম্বোলাইড অনেক সাহায্য করে. এছাড়াও এটি শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট যা খুব ক্ষতিকর মুক্ত রেডিক্যালকে নিউট্রালাইজে করে ফলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এর কারণে ত্বকের কোষগুলি নষ্ট হয়না. এর জন্য এটি আমাদের বয়স বাড়লেও বুঝতে দেয় না. অর্থাৎ অকাল বার্ধক্য হবার হাত থেকে রক্ষাকরে.
Azadirachtin = আজাদিরাকটিন ত্বকের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং পরজীবীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
Quercetin = এটি সূর্যের UV রশ্মির হাত থেকে রোযা করে, বয়স বাড়ার যে বলিরেখা দেখা দেয় তার হাত থেকে রোযা করে, এটি কোলাজেন এবং ইলাস্টিন উৎপাদনকে বাড়িয়ে তোলে, ত্বকের পুনর্জন্মকেও সমর্থন করে, ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং মেলানিন উৎপাদনকে বাধা দিয়ে হাইপারপিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করতে পারে।
Gallic acid = এটি ত্বকের গঠন এবং ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে.
Catechin = ক্যাটেচিন ত্বকের প্রাকৃতিক লিপিডএর বাধাকে শক্তিশালী করে তোলে – সিরামাইড এবং স্ফিংগোলিপিড গঠনকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে. এছাড়াও এটি ত্বকের এলাস্টিসিটিকে বজায় রাখে ম্যাট্রিক্স মেটালোপ্রোটিনেজ (এমএমপি) এনজাইমগুলিকে বাধা দিয়ে যা সম্ভব হয় কোলাজেন কে ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে.
Ascorbic acid = নিমের পাতায় থাকা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড যাকে আমরা ভিটামিন সি নাম জানি – এটি আমাদের ত্বককে দৃঢ় করে, সূর্যের থেকে হইয়া ক্ষতি থেকে আমাদের ত্বককে রোযা করে. এছাড়াও এটি খুব শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে| এটি কালো দাগ এবং হাইপারপিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে।
Beta-sitosterol = নিম পাতায় থাকা বিটা সিস্টেরল হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেয়, ফলে ত্বকের মধ্যে জল পরিবহনকারী অ্যাকোয়াপোরিন চ্যানেলগুলির কার্যকারিতা বেড়ে যায়. ফলে আমাদের ত্বক সবসময় হাইড্রেড থাকে. এছাড়াও এটি মেলানিন উৎপাদনকে বাধা দিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে.
3>>চুলের যত্নে নিমের গুন্
শুধু মাত্র ত্বকেই সীমিত নয় নিমের পাতার গুন্, এটি আমাদের চুলের যত্নেও অনেক কার্যকরী. চুলের গোড়াকে ভিটামিন এবং ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে শক্তিশালী করে, নিম পাতা আমাদের চুলকে ময়শ্চারাইজ করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে অকাল পেকে যাওয়া হাত থেকে রোযা করে । এর ফলে খুশকি কমে, চুল পড়া কম হয়, চুলের শক্তি বৃদ্ধি পায়. এর সাথে সাথে চুলকে খুব সিল্কি করে.
4>>ডায়াবেটিসে নিম পাতার উপকারিতা
>>>রক্তে শর্করা পরিমান নিয়ন্ত্রণ
নিম পাতার মধ্যে জৈব সক্রিয় কম্পাউন্ড যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড, গ্লাইকোসাইড এবং ট্রাইটারপেনয়েড থাকে. যা ইনসুলিন এর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং গ্লুকোজ গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
>>>ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়
টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর প্রধান কারণ যা হলো ইনসুনলিনের ক্ষরণের পরিমান কমে গেলে হয় . নিমের পাতা অগ্ন্যাশয়কে আরও ইনসুলিন উৎপাদনে উদ্দীপিত করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে.
>>>ডায়াবেটিসজনিত পার্শপ্রতিক্রিয়া কে কমায়
নিম পাতার মধ্যে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে থাকে. এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে যার ফলে কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুর সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো বড়ো পার্শপ্রতিক্রিয়ার হাত থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে.
5>>ওজন কমাতে নিমের গোপন কাজ
অতিরিক্ত ক্ষিদা আটকাতে নিমের পাতা সাহায্য করে এর ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি থেকে আটকায়
6>>রোগ সংক্রমণে নিমের গুণাবলী
>>>ব্যথাযন্ত্রণার হাত থেকে রক্ষা
নিমের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ব্যথা যন্ত্রনা দূর করে, বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়. ফোলাভাব ক্ষমতা সাহায্য করে.
>>>নিম পাতা মানেই জীবাণুনাশক
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল এইগুলো নিম পাতার মধ্যে উপস্থিত থাকায় . এটি দাঁতের সমস্যা, ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে.
>>>লিভার পরিষ্কার এ নিমের ভূমিকা
শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন দূর করে নিম রক্ত বিশুদ্ধ করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়.

নিম পাতার ব্যবহার (usage of neem leaves)
দেখো নিম পাতার অনেক গুন্ আছেই এই পোস্ট টা পড়ার পর তোমরা বুঝেই গেছো. কিন্তু এটা কি জানো নিম পাতার সঠিক ব্যবহার কিভাবে হয়. আমি জানি না অন্যরা কিভাবে ব্যবহার করে, আমি মাসে দুদিন নিম পাতার রস সকালে খালি পেটে খাই. এছাড়া মাঝে মাঝে নিম পাতা বেটে কাঁচা হলুদের সাথে আমি আমার ত্বকে লাগাই. এছাড়াও তোমরা চাইলে নিমের তেল, নিমের সাবান ব্যবহার করতে পারো. এই তেল চুলের যত্ন নিতে সক্ষম. কিন্তু আমি বলবো যাই ব্যবহার করো ভালো মানের প্রোডাক্ট দেখে ব্যবহার করো
নিম পাতার অতিরিক্ত ব্যবহার বিভিন্ন পার্শপ্রতিক্রিয়া (side-effect of neem leaves)
বেশিদিন ব্যবহার করলে লিভারের ওপর চাপ পড়তে পারে
গর্ভবতী মহিলাদের নিম পাতা ব্যবহার না করে ভালো এতে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে
খুব বেশি সেবন করলে বমি, পেট ব্যথা, মাথা ব্যথা হতে পারে.
শিশুদের জন্যে চিকিৎসকের পরার্মশ এ ব্যবহার করা উচিত এতে শিশুদের তীব্র বিষক্রিয়া হতে পারে
সেনসিটিভ স্কিনে ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া, ত্বকের শুস্কতা এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে.
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
আমার এই পোস্ট টি ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ডাটা এবং নিজের কিছু এক্সপিরিয়েন্স কে একত্রিত করে আমি এইখানে লিখেছি. নিজের শরীর কে আমরা ইন্টারনেটের থেকে বেশি বুঝি, তাই আমাদের দরকার যদি কিছু সমস্যা আমরা ফীল করি তাহলে আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার. কয়েকটা সাইট এর লিংক দিলাম যার রেফারেন্স আমাকে অনেক সাহায্য করেছে.
1 2 3 4 5 6 7 8
problems we can solve in this post
“নিম পাতার উপকারিতা” (Benefits of neem leaves)
“ত্বকের জন্য” (neem leaves for skin)
“চুলের জন্য” (neem leaves for hair)
“রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা” (neem leaves for immunity)

